ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল কাঠামোর আওতায় আনছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের নগর স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় এনে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের শহুরে জনসংখ্যা ১০ শতাংশেরও কম ছিল। সে সময় স্বাস্থ্যসেবার মূল গুরুত্ব ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর। বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।এই বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাইরে রেখে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।ড. মুহিত জানান, এতদিন নগরের স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকর দিকগুলো বজায় রেখে এখন সরকারের অধীনে একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।নতুন ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার কর্মীকেও নতুন কর্মীদের সঙ্গে একই কাঠামোর আওতায় এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের সুবিধার্থে নগর এলাকায় সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ভাসমান জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ড. মুহিত বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবার নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপি চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন দশকের জন্য একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েত।

নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল কাঠামোর আওতায় আনছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী