ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নগদের সাবেক এমডি মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ

থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড, যা পরে নগদ লিমিটেড নামে পরিচিত হয়, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতে শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন।দুদকের আবেদনে বলা হয়, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ সরিয়ে নেওয়া, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।অনুসন্ধানে দুদক প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা বিভিন্ন সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার কারসাজির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে পাঠানো হয়।এরপর সেই অর্থ ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।দুদকের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।আবেদনে আরও বলা হয়, ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে একাধিক ধাপে লেনদেন বা লেয়ারিং করে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানান, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব শেয়ার বিক্রি বা অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। ফলে শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা শেয়ার কেনার বিপরীতে বিদেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়েছেন, এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।দুদক জানায়, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই শেয়ারগুলো বিক্রি বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালার আওতায় শেয়ারগুলো ফ্রিজ করার আবেদন করা হয়।আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

নগদের সাবেক এমডি মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ