আবারও প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার অধিকার রয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করে জয়লাভ করেছিল দাবি করে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার তাঁর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউক্স সিটিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকলেও ট্রাম্প বারবার এই সাংবিধানিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সিউক্স সিটির সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা তিনি নিশ্চিত নন, তবে আইন অনুযায়ী তাঁর হয়তো আর লড়ার সুযোগ নেই। এর পরপরই তিনি স্বীকার করেন যে মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনীতে দুই মেয়াদের বেশি নির্বাচিত হওয়ার ওপর সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই পুরোনো ও প্রমাণিত তথ্যহীন অভিযোগ টেনে তিনি বলেন, ২০২০ সালে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। হাসতে হাসতে ট্রাম্প যুক্তি দেখান, “যেহেতু তারা দ্বিতীয়বার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বাস্তবিক অর্থে আমরা তিনবারই জিতেছি, তাই আমার মনে হয় আবারও নির্বাচনে লড়াই করার পূর্ণ অধিকার আমার রয়েছে।” ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সমাবেশে তিনি আরও এক মেয়াদে হোয়াইট হাউসে থাকার বাসনা ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি তাঁর সমর্থকদের মাঝে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা প্রচারণামূলক পণ্যও লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্পের দলীয় মিত্ররা, বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন, একে ডেমোক্র্যাটদের খেপিয়ে মজা নেওয়ার নিছক ‘রসিকতা’ বলে দাবি করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প হয়তো সাংবিধানিক রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ খুঁজছেন। সমাবেশে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে সংবিধানের ওই ধারাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সেখানে কোনো ফাঁকফোকর বা ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। তবুও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জনসমর্থন যখন তলানিতে এসে ঠেকেছে, তখন সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে এবং রিপাবলিকান পার্টির ভোটব্যাংক সংহত করতে তিনি আবারও এই মেরুকরণমূলক বক্তব্য সামনে আনলেন বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান