নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা শোনালেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী
কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘সীমা অতিক্রম করেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।সম্প্রতি ‘পিয়ার্স মরগ্যান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহায় হামলার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।শেখ মোহাম্মদ বলেন, কাতার যখন যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করছিল এবং দোহায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তখনই ইসরাইল কাতারে হামলা চালায়।তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মধ্যস্থতা করছিলাম এবং দোহায় ট্রাম্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তখন ইসরায়েল আমাদের ওপর হামলা চালায়।’কাতারের প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এমন হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।শেখ মোহাম্মদ বলেন, এমন একটি নজির তৈরি হচ্ছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারীকে আক্রমণ করা হচ্ছে—যা ইতিহাসের কোনো যুদ্ধেই কখনো ঘটেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালনরত একটি দেশের ওপর হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংঘাত নিরসনের উদ্যোগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ওই হামলার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন ইসরাইলি অভিযান। অর্থাৎ ইসরাইল নিজেই হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, অভিযান পরিচালনা করে এবং এর পুরো দায় নেয়।নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হামলাটিকে ন্যায্য বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, দোহায় অবস্থানরত হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব ৭ অক্টোবরের হামলা সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল।অন্যদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ ওই হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের ওপর সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ভবিষ্যৎ মধ্যস্থতার উদ্যোগের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।দোহা হামলার বিষয়ে কাতারের এই অবস্থান মূলত দেশটির মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর হামলার প্রভাবকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে হামলার উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, সেটিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।