টানা তৃতীয় বছর দেশ ছাড়লেন প্রায় ৫০ হাজার ইসরায়েলি: গবেষণা
টানা তৃতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালেও রেকর্ডসংখ্যক ইসরায়েলি দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশ ছেড়েছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ওই বছর প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইসরায়েলি অন্তত এক বছর বিদেশে অবস্থান করেছেন।গবেষকেরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দেশত্যাগের উচ্চ প্রবণতা ২০২৫ সালেও অব্যাহত ছিল।গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের জানান, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ অনুমান করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:3135]২০২৫ সালে অন্তত টানা তিন মাস দেশের বাইরে ছিলেন ৯০ হাজার ৯২২ জন ইসরায়েলি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৪৯৯ এবং ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০৯। ফলে তিন বছরে মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩০ জন ইসরায়েলি অন্তত তিন মাস বিদেশে ছিলেন।গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, তিন মাসের বেশি বিদেশে অবস্থানকারী এবং পরবর্তী সময়ে অন্তত এক বছর দেশের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যার মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের দীর্ঘমেয়াদি দেশত্যাগের হিসাব করা হয়েছে।তবে এটি এখনো সরকারি চূড়ান্ত পরিসংখ্যান নয়। কাউকে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসী হিসেবে গণ্য করতে তাঁর বিদেশে অবস্থানের সময় পর্যবেক্ষণ করায় ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য ২০২৭ সালের শুরুতে প্রকাশিত হওয়ার কথা।গবেষণায় সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে ইসরায়েলে গিয়ে আবার চলে যাওয়া নতুন অভিবাসীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত ৬৯ হাজারের বেশি দেশত্যাগের হিসাবের তুলনায় গবেষণাটির অনুমান কম।ইতাই আতের বলেন, গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে থাকা নাগরিকদের মধ্যে কতজন দেশ ছাড়ছেন, তার একটি বাস্তবসম্মত চিত্র পাওয়া।[BANGVIEWS-POST:3134]সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসরায়েলে ফিরে আসা মানুষের তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার বেশি মানুষ দেশ ছেড়েছেন। দেশটির ইতিহাসে কয়েকটি ব্যতিক্রমী সময় ছাড়া সাধারণত দেশত্যাগের চেয়ে নতুন অভিবাসীর আগমনই বেশি ছিল।গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংখ্যা এখনই কাঠামোগত সংকট তৈরি না করলেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।বিরোধী রাজনীতিকেরা এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের নীতি, চলমান যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটকে দায়ী করেছেন।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল