ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘ক্যাসিনো’ ব্যবসায় স্ত্রীর সম্পদ অর্জন: তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতিতে খালাস আসামি

স্বামীর কথিত ক্যাসিনো ব্যবসার অবৈধ আয়ে স্ত্রীর বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় এজাহার ও অভিযোগপত্রের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি এবং একই তদন্ত কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী জবানবন্দির কারণে আসামি খালাস পেয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। ‘সুমি রহমান বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ শীর্ষক ফৌজদারি আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। ২৭ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।আদালতে আপিলকারী সুমি রহমানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী মো. আশরাফ আলী এবং আইনজীবী মো. জিয়াউল করিম খান। অপরদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ওমর ফারুক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক মো. গুলসান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে সুমি রহমান ও তাঁর স্বামীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে দাবি করা হয়, সুমি রহমান তাঁর স্বামীর ক্যাসিনো ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ উৎস থেকে অর্জিত অর্থে রাজধানীর শুক্রাবাদে একটি পাঁচ তলা বাড়িসহ মোট ১ কোটি ৩১ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারিক আদালত সুমি রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং তাঁর স্বামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।বিচার শেষে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিচারিক আদালত সুমি রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তাঁর নামে থাকা প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ ৬২ হাজার টাকার সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুমি রহমান হাইকোর্টে আপিল করেন।আপিলের শুনানিতে সুমি রহমানের আইনজীবী যুক্তি দেখান, এজাহারে আসামির স্বামীর ‘ক্যাসিনো ব্যবসা’র কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও পরবর্তীতে একই বাদী যখন চার্জশিট দাখিল করেন, তখন সেখানে ‘ক্যাসিনো’ শব্দটির কোনো উল্লেখই ছিল না। এছাড়া প্রশ্নবিদ্ধ সম্পত্তিগুলোর অর্থ সুমি রহমানের ব্যবসায়ী পিতার উপহার থেকে এসেছিল।হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি আপিলকারীর বাবার আয়কর নথি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখতেন, তবে অর্থের প্রকৃত উৎস স্পষ্ট হয়ে যেত। পিতা উপহার দিলে তার আয়ের উৎস প্রমাণের দায় মেয়ের ওপর বর্তায় না। আদালত কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, এজাহারের বক্তব্য এবং অভিযোগপত্রের বিবরণ সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজে দুবার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে (পিডব্লিউ-১ এবং পিডব্লিউ-১৩) আয়ের উৎসের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান দিয়েছেন, যা তদন্তের মারাত্মক ত্রুটি। প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।এছাড়া মামলার মূল অভিযুক্ত স্বামী আগেই অব্যাহতি পাওয়ায় আইনি সমতার ভিত্তিতে সুমি রহমানও খালাস পাওয়ার যোগ্য বলে আদালত অভিমত দেন। আপিল মঞ্জুর করে বিচারিক আদালতের দেওয়া তিন বছরের কারাদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

‘ক্যাসিনো’ ব্যবসায় স্ত্রীর সম্পদ অর্জন: তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতিতে খালাস আসামি