ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাশিয়ার এস-৩০০, এস-৪০০ থেকে শিক্ষা নিতে চাইছে পেন্টাগন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তার বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে। সামরিকবিষয়ক ম্যাগাজিন মিলিটারি ওয়াচের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি মোবাইল সেন্সর প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধারণাটি রাশিয়ার এস-৩০০ ও এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় রাডার ও সেন্সরকে তুলনামূলকভাবে আলাদা ও মোবাইল অবস্থানে ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়।[BANGVIEWS-POST:3842]ইরানের হামলায় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার পর এ ধরনের কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়ে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার ধ্বংস হয়েছিল। স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর একজন মার্কিন কর্মকর্তাও রাডারটি ধ্বংসের কথা নিশ্চিত করেছিলেন।এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে এসব ঘটনার সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসও জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কয়েকটি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও সব ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত নয়। অ্যান/টিপিওয়াই-২ রাডার থাড ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সেন্সর। এটি শত্রুর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হয়। ফলে এমন রাডার হারালে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।নতুন মার্কিন ধারণায় একটি রাডারকে নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ইউনিটের সঙ্গে একই জায়গায় রাখার পরিবর্তে আলাদা মোবাইল সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে। দূরে থাকা রাডার শত্রুর লক্ষ্য শনাক্ত করে সেই তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য স্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় পাঠাবে।তবে এটিকে সরাসরি রাশিয়ার প্রযুক্তি ‘কপি’ করার সিদ্ধান্ত বলা এখনই ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইবিসিএস ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন সেন্সর ও অস্ত্রকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ধারণা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনাটি রুশ প্রযুক্তির সরাসরি অনুকরণ নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে মোবাইল ও বিচ্ছিন্ন সেন্সর ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে মূল্যায়নের অংশ হতে পারে।[BANGVIEWS-POST:3841]ইরানের হামলায় রাডার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন হিসাব প্রকাশিত হয়েছে। আনাদোলুর এক সংকলনে ১২টি মার্কিন ও মিত্র রাডার বা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা আক্রান্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩ দশমিক ১৫২ বিলিয়ন ডলার। তবে এই হিসাবের সবগুলো ক্ষয়ক্ষতি একই মাত্রায় স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে পেন্টাগন লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তি করেছে, যার লক্ষ্য থাড ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।সব মিলিয়ে, ইরানের হামলায় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সেন্সরগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ায় ভবিষ্যতে মোবাইল, বিচ্ছিন্ন এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক রাডার ব্যবস্থার দিকে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।সূত্র: আরটি

রাশিয়ার এস-৩০০, এস-৪০০ থেকে শিক্ষা নিতে চাইছে পেন্টাগন