ইরানের তেল বন্ধ হলে অন্য দেশও এক ফোঁটা তেল বিক্রি করতে পারবে না’ : গালিবাফ
ইরানকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়া হলে এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে ইরানের সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এই সতর্কবার্তা দেন গালিবাফ।গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিশ্বশক্তির খুব ভালোভাবেই জেনে রাখা উচিত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যদি ইরানকে তেল বিক্রি করতে না দেওয়া হয়, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও এক ফোঁটা তেল বিক্রি করার সুযোগ পাবে না। আমরা অতীতেও এই কঠোর বার্তার কথা স্পষ্ট করে বলেছি।’ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের চলমান রাজনৈতিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানিতে দেশটি বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এই বক্তব্য সামনে এলো।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত আগস্টে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছিলেন, চলমান সামরিক উত্তেজনা ও ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিগুলোতে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ইরানের তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রত্যক্ষ সামরিক নিরাপত্তার আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে ১০০ কোটিরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে।তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ‘লোহাবর্মিত অবরোধের’ কারণে ইরান থেকে কোনো তেল বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি এবং অবরোধের পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গালিবাফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এর প্রভাব পুরো আঞ্চলিক অবকাঠামোর ওপর পড়বে।গালিবাফের ভাষায়, ‘আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।’ইরানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশটির তেল রপ্তানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথ ঘিরে চলমান উত্তেজনা আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।