ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের নির্দেশ তারেক রহমানের

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রশ্রয় না দিয়ে তৃণমূল থেকে সৎ, গ্রহণযোগ্য ও ভালো মানুষ বাছাই করে দলীয় প্রার্থী করার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো প্রশাসন ব্যবহার কিংবা ভোটকেন্দ্র দখল করে দলীয় প্রার্থীকে কৃত্রিমভাবে জয়ী করার কোনো সুযোগ বিএনপি দেবে না; বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট ও ভালোবাসায় নির্বাচিত হতে পারেন—এমন ব্যক্তিদেরই মনোনয়ন দিতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে আয়োজিত বিএনপির এক বর্ধিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দলের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং তাদের গুপ্তচরেরা নতুন করে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে বিপুল অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। জনগণের তীব্র আন্দোলনে বিতাড়িত হওয়ার পর এখন তারা গণতন্ত্রের জন্য নাটকীয় মায়াকান্না করছে। পাশাপাশি যারা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করেও জনগণের রায় পায়নি, তারাও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে।চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারি এবং দলীয় প্রভাব খাটানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তি দলের সাধারণ কর্মী, কোনো শীর্ষ নেতা কিংবা সংসদ সদস্য—যে-ই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। দেশের মানুষ শান্তি, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশায় বিএনপিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময় ছাড়া বাকি পুরো সময় প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে সাধারণ মানুষের সেবা ও সুখে-দুঃখে পাশে থাকার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দলীয় উদ্যোগ জোরদারের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন নগর সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। সভায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত দলীয় সংসদ সদস্য এবং পাঁচ শতাধিক শীর্ষ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাত সাড়ে ৯টায় সভাস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী টানা ৪৫ মিনিট দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে হোটেল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।এদিকে এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এক নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের উদ্দেশে যাওয়ার পথে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এক নারী ব্যাংকার কাফনের কাপড় পরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে দাঁড়িয়ে চাকরি পুনর্বহালের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই নারী দুই হাত তুলে চিৎকার করে তাঁর দাবি জানালে দ্রুত পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে নিরাপদে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের নির্দেশ তারেক রহমানের