সিগারেট শুল্ক অর্ধেক কমাল মালদ্বীপ
অবৈধ তামাক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেটের আমদানি শুল্ক অর্ধেক কমিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি প্যাকেট সিগারেটের আমদানি শুল্ক ৮ মালদ্বীপীয় রুফিয়া থেকে কমিয়ে ৪ রুফিয়া করা হয়েছে।মালদ্বীপ সরকারের দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ করের কারণে যে অবৈধ তামাক বাজার বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।এর আগে ২০২৪ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ ও কর বাড়ানোর কারণে মালদ্বীপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো ডে অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার মনে করছে, অতিরিক্ত কর কাঙ্ক্ষিত ফল না দিয়ে বরং অবৈধ সিগারেটের বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।মালদ্বীপের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মুসা জামির পার্লামেন্টে বলেন, কর বৃদ্ধির ফলে বৈধ সিগারেটের দাম বেড়ে যায়। এতে অনেক ভোক্তা অবৈধ সিগারেট ও বিকল্প তামাকজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[BANGVIEWS-POST:2139]তিনি জানান, শুল্ক কমানোর মাধ্যমে বৈধ পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অবৈধ বাজারের আকর্ষণ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।সরকার বলছে, দেশটি ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও অবৈধ তামাক প্রবেশ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈধ ও অবৈধ পণ্যের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনলে চোরাচালান কমবে এবং সরকারি আয় বাড়তে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কর বাড়ালেই অবৈধ তামাক বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবসম্মত করনীতি একসঙ্গে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি নেওয়ার পরেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ভুটান ও অস্ট্রেলিয়া। ভুটান একসময় সিগারেট নিষিদ্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলেও পরে অবৈধ বাজার বিস্তারের কারণে নীতিতে পরিবর্তন আনে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও উচ্চ তামাক করের পাশাপাশি অবৈধ তামাক বাণিজ্য মোকাবিলায় লড়াই করছে।
মালদ্বীপের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো সুপারিশের বিষয়টি এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।