ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নামাজে মন বসছে না? মেনে চলুন চার পরামর্শ

ইবাদতে তৃপ্তি আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এটি অর্জিত হলে সালাত বোঝা মনে হয় না; বরং চোখের শীতলতা হয়ে ওঠে। কোরআন তিলাওয়াতও তখন শুধু দায়িত্ব নয়, অন্তরের প্রশান্তির উৎসে পরিণত হয়।অনেকেই নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির করার পরও কাঙ্ক্ষিত একাগ্রতা অনুভব করেন না। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, ইবাদতের প্রশান্তি শুধু বাহ্যিক আমলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। হৃদয়ের অবস্থা, গুনাহ থেকে দূরে থাকা, হালাল-হারামের প্রতি সতর্কতা এবং মনোযোগের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।কোরআন ও গ্রহণযোগ্য হাদিসের আলোকে ইবাদতে একাগ্রতা বাড়াতে সহায়ক চারটি করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো।১. দৃষ্টিকে সংযত রাখুনঅনিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ দৃষ্টি মানুষের অন্তরকে অস্থির করে এবং গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই ইবাদতে মনোযোগ ও আত্মিক পবিত্রতা ধরে রাখতে দৃষ্টির হেফাজত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটিই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।’—সুরা আন-নুর: ৩০।একই নির্দেশ পরের আয়াতে মুমিন নারীদেরও দেওয়া হয়েছে। সুতরাং দৃষ্টির সংযম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। অপ্রয়োজনীয় ও নিষিদ্ধ দৃশ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং ইবাদতে মনোযোগ ফেরানোর একটি কার্যকর অনুশীলন।২. গুনাহ পরিহার ও তওবা করুনবারবার গুনাহ করা মানুষের অন্তরের সংবেদনশীলতা নষ্ট করে দিতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরের ওপর মরিচা ধরিয়েছে।’—সুরা আল-মুতাফফিফিন: ১৪।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা কোনো গুনাহ করলে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। সে গুনাহ ছেড়ে দিলে, ক্ষমা চাইলে এবং তওবা করলে তার অন্তর পরিষ্কার হয়। কিন্তু আবার গুনাহ করলে সেই দাগ বাড়তে থাকে।—জামে তিরমিজি: ৩৩৩৪।তাই ইবাদতে প্রশান্তি না পেলে শুধু আমল বাড়ানো নয়, নিজের দৈনন্দিন জীবনও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কোনো অন্যায়, মানুষের অধিকার নষ্ট করা বা গোপন গুনাহে জড়িয়ে থাকলে তা ছেড়ে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে।৩. মনোযোগ ও বিনয়ের সঙ্গে ইবাদত করুনঅনেক সময় মানুষ নামাজ আদায় করলেও তার মন পার্থিব চিন্তায় বিচরণ করে। ইবাদতকে কেবল অভ্যাসগত কাজে পরিণত না করে অর্থ বুঝে, ধীরস্থিরভাবে ও আল্লাহর সামনে উপস্থিত থাকার অনুভূতি নিয়ে আদায় করা জরুরি।আল্লাহ সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই সফল হয়েছে মুমিনরা, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী ও একাগ্র।’—সুরা আল-মুমিনুন: ১-২।হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তি নামাজ শেষ করলেও তার জন্য কখনো নামাজের এক-দশমাংশ, এক-নবমাংশ, এক-অষ্টমাংশ থেকে শুরু করে অর্ধেক পর্যন্ত সওয়াব লেখা হয়।—সুনান আবু দাউদ: ৭৯৬। হাদিসটি ইঙ্গিত করে, নামাজে উপস্থিতি ও একাগ্রতার মাত্রা সওয়াবের ওপর প্রভাব ফেলে।ইহসান সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তাঁকে দেখতে না পারো, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন।’—সহিহ বুখারি: ৫০।নামাজের আয়াত ও দোয়ার অর্থ জানা, তাড়াহুড়া পরিহার করা এবং ইবাদতের আগে মনকে প্রস্তুত করা একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।৪. হালাল উপার্জন ও খাদ্য গ্রহণ করুনহালাল জীবিকা ইসলামী জীবনের মৌলিক শিক্ষা। আল্লাহ রাসুলদের উদ্দেশে বলেন, ‘হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো।’—সুরা আল-মুমিনুন: ৫১।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না।’ এরপর তিনি এমন ব্যক্তির কথা বলেন, যার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম এবং যে হারাম দ্বারা প্রতিপালিত; তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?—সহিহ মুসলিম: ১০১৫।সুতরাং ইবাদতে প্রশান্তি চাইলে আয়-উপার্জন, খাদ্য এবং অন্যের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সন্দেহজনক ও নিষিদ্ধ উপার্জন পরিহার করে হালাল জীবিকা গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে।ইবাদতের স্বাদ শুধু বেশি আমলের মাধ্যমে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন পরিশুদ্ধ হৃদয়, সংযত দৃষ্টি, আন্তরিক তওবা, ইবাদতে মনোযোগ এবং হালাল জীবনযাপন। তবে প্রশান্তি অনুভূত না হলেও ইবাদত ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অনুভূতির ওঠানামা স্বাভাবিক; একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকতার সঙ্গে আল্লাহর আনুগত্য করে যাওয়া।ফ্যাক্ট চেক: কোরআনের আয়াত এবং তিরমিজি ৩৩৩৪, আবু দাউদ ৭৯৬ ও মুসলিম ১০১৫-এর উদ্ধৃতিগুলো মূল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ‘দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীর’ মর্মে তাবারানির ১০৩৬২ নম্বর বর্ণনাটির সনদ দুর্বল বলে হাদিসবিশারদদের একাংশ মত দিয়েছেন। তাই সেটিকে নির্ভরযোগ্য হাদিস হিসেবে উপস্থাপন না করে এই সংস্করণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নামাজে মন বসছে না? মেনে চলুন চার পরামর্শ