ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঢাকায় ফ্লাইট বাড়াতে চায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো

বাংলাদেশের আকাশপথে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ঢাকায় ফ্লাইট চালু করেছে অথবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এয়ার চায়না, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স ও ইজিপ্টএয়ারের পর সৌদি আরবের নতুন প্রিমিয়াম এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ারও বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। তাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামী যাত্রীদের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে বছরজুড়ে স্থিতিশীল চাহিদা থাকে।[BANGVIEWS-POST:1387]শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতিও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্য আকাশপথে বিদেশে পাঠানো হয়। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের কার্গো ধারণক্ষমতা ব্যবহার করে এসব পণ্য পরিবহন এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য লাভজনক ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই সম্ভাবনা আরও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, লাগেজ সরবরাহ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যে অভিযোগ ছিল, আধুনিক অবকাঠামো চালুর মাধ্যমে তার অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিমানবন্দর অবকাঠামো, দ্রুত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী আয়, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা এবং রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণও বাংলাদেশকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে আকর্ষণীয় করে তুলছে। এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1389]সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে যাত্রীরা আরও বেশি গন্তব্য, উন্নত সেবা এবং প্রতিযোগিতামূলক ভাড়ার সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারগুলোর একটি। এই সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বিমানবন্দর সেবা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে হবে।

ঢাকায় ফ্লাইট বাড়াতে চায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো