ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সার্ককে সক্রিয় করতে নেপালের সহযোগিতা চাইলেন মঈন খান

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরায় সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেপালের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সম্মিলিত অবস্থান গ্রহণ করলে নিজেদের স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবে।এ জন্য সার্কের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংস্থাটিকে পুনরায় কার্যকর করতে নেপালের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।তাঁর মতে, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষা করা সহজ হবে।বৈঠকে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। দুই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আড়াই হাজারের বেশি নেপালি শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন।এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এ সময় নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।রাষ্ট্রদূত জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।জবাবে ড. আবদুল মঈন খান নেপালকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি জানান, বাংলাদেশ সবসময় নেপালের পাশে রয়েছে। দেশটির প্রয়োজনে সামর্থ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে।

সার্ককে সক্রিয় করতে নেপালের সহযোগিতা চাইলেন মঈন খান