ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদে শেষ সুযোগ দিল বিআরটিএ

মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদ করার সময়সীমা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত মূল কর ও ফি পরিশোধ করে এসব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন যানবাহনের মালিক ও চালকেরা।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্ধিত সময়ের মধ্যে মোটরযানের ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।এ জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের নির্ধারিত মূল কর ও ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হালনাগাদ করলে বিলম্বজনিত জরিমানা দিতে হবে না।বিআরটিএ জানিয়েছে, গ্রাহকদের জন্য এটি শেষবারের মতো দেওয়া সুযোগ। তাই আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।এদিকে মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।এর আগে প্রকাশিত পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, গাড়ি কেনাবেচার পর নির্ধারিত নিয়মে মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী এ বিধান অনুসরণ করতে হবে।তবে অনেক ক্রেতা গাড়ি কেনার পরও মালিকানা পরিবর্তন না করেই সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এতে গাড়ির আগের মালিককে বিভিন্ন ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মালিকানা পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর পুরোনো মালিকের ওপরই বর্তাতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জও তাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।এ ধরনের সমস্যা এড়াতে গাড়ি কেনাবেচার পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে।এ জন্য বিআরটিএর অনলাইন সেবা পোর্টাল bsp.brta.gov.bd-এ আবেদন করা যায়।অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইস ব্যবহার করে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।পাশাপাশি নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে পারছেন।মালিকানা পরিবর্তনের নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে বিআরটিএ।অন্যদিকে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু করেছে সংস্থাটি।সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।বিআরটিএ জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন করা হচ্ছে।সড়কে আইন মেনে যানবাহন পরিচালনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ এবং গাড়ি কেনাবেচার পর মালিকানা পরিবর্তনের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদে শেষ সুযোগ দিল বিআরটিএ