যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত তীব্র, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা–পাল্টা হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলার উত্তরে তেহরান তাদের মিত্রদের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে।গত মাসে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক কার্যত বাতিল হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। মুখস্ত জাতিসংঘ এবং সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজের ঘটনায় ইরানের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বেও সতর্ক দৃষ্টিপাত রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2077]উল্লেখ্য, মাত্র দশ দিন আগে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেন ইরানের সঙ্গে গত মাসের সমঝোতা চুক্তি কার্যত শেষ। তিনি পুনরায় ইরানবন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের সমস্ত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে’, তাই তেহরানও সমঝোতা স্থগিত করে দেশের নিরাপত্তায় মনোনিবেশ করেছে।ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, চুক্তির কালির দাগ শুকানোর আগেই ওয়াশিংটন হামলা শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধ চায় না, তারা আত্মরক্ষার্থেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন।দক্ষিণ ইরানের জাস্কে মার্কিন বিমানবাহিনীর আঘাতে একটি পানি পাম্প স্টেশন ও বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার ধ্বংস হয়ে বড় এলাকাবাসী পানিবঞ্চিত হচ্ছে। উত্তরে ইরান প্রতিশোধ স্বরূপ কুয়েতের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে কুয়েত আকাশসীমা বন্ধ করে দুটি অবকাঠামোতে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। বাহরাইনেও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে।জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে ধেয়ে আসা দশটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালানো হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2072]একদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধে যথাস্থানে অভ্যন্তরীণ সমর্থন তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন জনগণ নিহত সেনাদের জন্য ট্রাম্পকেও দায়ী করতে পারে। ট্রাম্পের সমর্থকরা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিরোধ কোনও সময় পুরো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।