ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ডেমোক্র্যাটরা জিতলেও চূড়ান্ত ক্ষমতা আমার হাতেই থাকবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও নিজের মূল নীতি ও নির্বাহী এজেন্ডা বাস্তবায়নে পিছপা হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেট বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে তাদের উত্থাপিত যে কোনো আইনের খসড়ায় সরাসরি ভেটো প্রয়োগের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) মধ্যবর্তী নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তিনি তাঁর সাংবিধানিক ভেটো ক্ষমতা সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করবেন। এই কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিরোধীরা তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘মিস্টার ভেটো’ উপাধি দিলেও তা হাসিমুখে গ্রহণ করতে তাঁর কোনো আপত্তি থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তাঁর হাতে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে, যা মূলত ভেটো। তিনি মনে করেন, টানা কয়েক মাস বিরোধী দলের প্রতিটি বিলে ভেটো দিয়ে তাদের আইন প্রণয়ন প্রচেষ্টা আটকে রাখলে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সমঝোতা ও আপস আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও ট্রাম্প নিজের নীতি নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতাকে অনেক বেশি সংহত ও শক্তিশালী করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ করে ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলার ৬-৩ ভোটের যুগান্তকারী রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ওই মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সদস্য রেবেকা স্লটারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির একচ্ছত্র ক্ষমতাকে বহাল রাখেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ফেডারেল সরকারের স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বোর্ড ও কমিশনগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের কার্যকর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই রায় প্রেসিডেন্টকে নির্বাহী সংস্থার ওপর কোনো সীমাহীন কর্তৃত্ব দেয়নি। সিবিএস নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকেরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হলে সরাসরি নির্বাহী আদেশের (Executive Order) মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউস সার্বিক আইনি প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান স্টিফেন মিলার এবং ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তরের পরিচালক রাসেল ভাউট এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কংগ্রেসের অনুমোদন এড়িয়ে কীভাবে নির্বাহী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। মূল রাজনীতির বাইরে সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন ডিসি ও হোয়াইট হাউসের উন্নয়নমূলক সংস্কার নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভবনের ভাঙা জানালা ও দেয়াল মেরামতের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের আদি সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার দাবি করেন। ২০২৭ সালের পরিকল্পনা হিসেবে তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে একটি আধুনিক বলরুম এবং নতুন সামরিক কমপ্লেক্সের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উঁচু স্মৃতি তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু করতে চান তিনি, যদিও তোরণ নির্মাণের বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির ৯৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গ্রাফিতি পরিষ্কারের অভিযানকেও নিজের প্রশাসনের নাগরিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে ট্রাম্প জানান, বিষয়টিতে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা থাকায় এ নিয়ে তিনি এখনই উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করছেন না। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টিতে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বেশ কয়েকজন দক্ষ ও যোগ্য তরুণ নেতা রয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেমোক্র্যাটরা জিতলেও চূড়ান্ত ক্ষমতা আমার হাতেই থাকবে: ট্রাম্প