হোয়াইট হাউসকে ‘সাদ্দামের চিজকেক রেস্তোরাঁ’ বললেন ওবামা, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসকে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের পরিচালিত একটি চিজকেক রেস্তোরাঁর সঙ্গে তুলনা করেছেন ওবামা। তাঁর এমন মন্তব্যের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন, এ ধরনের সমালোচনাই প্রমাণ করে ওবামা কতটা বাজে প্রেসিডেন্ট ছিলেন।সোমবার (২৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবামার মন্তব্য নিয়ে প্রায় তিন মিনিট কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার ও সাজসজ্জার সমালোচনা করে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক নির্বাচনী সমাবেশে ওবামা বলেছিলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) হোয়াইট হাউসের এমন অবস্থা করেছেন, যেন সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।’সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।সাংবাদিকেরা ওবামার বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প নিজের উদ্যোগে হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।ওবামার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসকে আপনার চিজকেক ফ্যাক্টরি মনে হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে, আপনি কত বাজে প্রেসিডেন্ট ছিলেন।’ট্রাম্পের দাবি, অতীতে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন স্থানে অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তাঁর প্রশাসন সেই সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করেছে।তিনি বলেন, ‘ওবামার মতো লোকেরা সামনের দরজা (হোয়াইট হাউসের) দিয়ে হেঁটে চলে যেতেন। তারা ভাঙা ইটের গাঁথুনি দেখতেন। দেয়ালগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার করা হয়নি। সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। সেগুলো চোখে পড়েনি।’ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তাঁর পূর্বসূরিরা যথাযথভাবে গুরুত্ব দেননি।ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ব্যাপক সংস্কার ও সাজসজ্জার উদ্যোগ নিয়েছেন।এসব কাজের মধ্যে রয়েছে বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ এবং প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক কক্ষ ওভাল অফিসে সোনার পাতের অলংকার সংযোজন।হোয়াইট হাউসের এই পরিবর্তনগুলো নিয়েই মূলত ওবামার সমালোচনা।যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন চিজকেক ফ্যাক্টরি বৈচিত্র্যময় খাবারের তালিকা এবং জমকালো অন্দরসজ্জার জন্য পরিচিত।ওবামা তাঁর মন্তব্যে ট্রাম্পের পছন্দের সোনালি সাজসজ্জার সঙ্গে ওই রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জার তুলনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের নাম ব্যবহার করেন।২০০৬ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁর শাসনামলের প্রাসাদগুলোর জমকালো সাজসজ্জার সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কারের মিল টেনেই ওবামা এই বিদ্রূপ করেন।যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে তিনি ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। এর মধ্যে হোয়াইট হাউসের সংস্কার এবং সোনালি সাজসজ্জা নিয়েও মন্তব্য করেছেন।ওবামা ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরের সমালোচনা করে আসছেন তাঁরা।তবে এবারের মন্তব্যের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল বিশেষভাবে তীব্র।শুধু ওবামার মন্তব্য নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।গত রোববার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শব্দের একটি পোস্ট প্রকাশ করেন ট্রাম্প।ওই দীর্ঘ পোস্টে তিনি ইরান যুদ্ধ কিংবা মার্কিন অর্থনীতির পরিবর্তে মার্কিন কৌতুকশিল্পী বিল মাহেরকে আক্রমণ করেন।এ ছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময়ও তাঁকে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের এমন প্রতিক্রিয়াকে নির্বাচনী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে ওবামা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে ট্রাম্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন।ফলে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দুই নেতার রাজনৈতিক বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।সূত্র : এক্সিওস