ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: যে আদালত জবাবদিহি করতে বাধ্য নন

১৯৭১ সালের বিচারগুলোর মতো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বর্তমানে আসা অভিযোগগুলোর কয়েকটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন যে মাত্রায় প্রমাণকে শক্তিশালী বলে দাবি করছে, বাস্তবে সেগুলো তার তুলনায় দুর্বল বলে মনে করেন সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। একই সঙ্গে তিনি বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনের ভুল প্রয়োগ এবং অভিযুক্তদের সাংবিধানিক অধিকার সীমিত রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে এক বিশ্লেষণে ডেভিড বার্গম্যান লিখেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার না দিলে এই বিচারপ্রক্রিয়া সব সময়ই অন্যায্য বিচারের বৈধ প্রশ্নের মুখোমুখি থাকবে।তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীদের বিচারের জন্য তৈরি সাংবিধানিক বিধানগুলোর কারণে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সীমিত রয়েছে।লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের প্রায় ১৯ মাস পর ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই বাংলাদেশের সংসদ ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন’ পাস করে। বার্গম্যানের লেখায় বলা হয়েছে, এর তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আটক ১৯৫ জন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা।এর পাঁচ দিন আগে সংসদ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী পাস করে সংবিধানে ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ যুক্ত করে। বার্গম্যানের ব্যাখ্যায়, এই দুটি অনুচ্ছেদ মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিল।প্রথমত, এগুলো সংশ্লিষ্ট আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা থেকে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয়ত, ওই আইনের আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কিছু মৌলিক অধিকার সীমিত করে। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, ৩৫(১) অনুচ্ছেদে ভূতাপেক্ষ দণ্ডবিধির বিরুদ্ধে সুরক্ষা, ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার অধিকার। তৃতীয়ত, ওই আইনের অধীনে অভিযুক্তদের সাংবিধানিক প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়।তবে শেষ পর্যন্ত ওই ১৯৫ জন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার কারও বিচার হয়নি। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে এবং পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের ফেরত পাঠাতে পাকিস্তান সম্মত হওয়ার পর তাদের বিচার না করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।বার্গম্যান লিখেছেন, স্বাভাবিক সময়ে সংবিধানের মৌলিক অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করার বিষয়টি সমর্থন করা কঠিন। তবে ১৯৭৩ সালে এ ব্যবস্থার পক্ষে অন্তত কিছু যুক্তি ছিল। তখন অভিযুক্তরা ছিলেন বিদেশি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন না; অপরাধের ঘটনাগুলো ঘটেছিল মাত্র কয়েক মাস আগে এবং বিচারকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও তখন ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল।তারপর প্রায় চার দশক ধরে আইনটি এবং প্রথম সংশোধনী কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।২০১০ সালে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বার্গম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আইনটি সংশোধন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ ‘ব্যক্তিদের’ বিরুদ্ধেও এটি প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে।১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশিদের বিচারের জন্য তখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বার্গম্যানের মতে, সেই পর্যায়ে প্রথম সংশোধনী ও অভিযুক্তদের অধিকার সীমিত রাখার পক্ষে ১৯৭৩ সালের প্রাথমিক যুক্তিগুলো আর একইভাবে প্রযোজ্য ছিল না। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক এবং ১৯৭১ সালের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিচারাধীন হলেও তারা বিদেশি সেনা ছিলেন না।তার মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধের গুরুত্ব ও গুরুতরতার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকার কম নয়, বরং আরও বেশি থাকা উচিত ছিল। এ ছাড়া বিচারাধীন অপরাধগুলো তখন কয়েক মাস আগের ঘটনা ছিল না; প্রায় ৪০ বছর আগের ঘটনা ছিল এবং রাষ্ট্রও আর নতুন বা ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল না।বার্গম্যান তার বিশ্লেষণে ২০১০ সালের পরের যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ওই বিচারগুলো গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং আসামিদের মৌলিক ন্যায়বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তিনি বিচারপ্রক্রিয়ার এই অবস্থার পেছনে বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।এ কারণে জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক হাইকোর্টে প্রথম সংশোধনীর ওই অনুচ্ছেদগুলোর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন বলে বার্গম্যান উল্লেখ করেন। তবে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেবেন না বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি রিটটি প্রত্যাহার করে নেন বলে লেখায় দাবি করা হয়েছে।বার্গম্যানের মতে, ওই সাংবিধানিক বিধানগুলো এখনো বহাল রয়েছে। আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়েছিল পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য, যদিও তাদের বিচার শেষ পর্যন্ত হয়নি। ২০১০ সালে এটি পুনরুজ্জীবিত করা হয় ১৯৭১ সালের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশিদের বিচারের জন্য। বর্তমানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারেও এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের হত্যা এবং এর আগের ১৫ বছরে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের বিষয়ও রয়েছে।বার্গম্যানের লেখায় বলা হয়েছে, এ পর্যায়ে অভিযুক্তদের পরিচয় বদলেছে, কিন্তু তাদের সাংবিধানিক অধিকার সীমিত থাকার বিষয়টি একই রয়ে গেছে।তার মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তদের অধিকার সংবিধানের ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সীমিত রাখার পেছনে আগের মতো আইনি বা নৈতিক যুক্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অভিযুক্তরা বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর অভিযোগ রয়েছে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নন, যে প্রেক্ষাপট ১৯৭৩ সালের সাংবিধানিক সংশোধনীর পেছনে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।বার্গম্যানের দাবি, এরপরও অভিযুক্তরা এমন কিছু অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অন্য ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত নাগরিকরা সাধারণত পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে তিনি আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে উল্লেখ করেছেন।তার বিশ্লেষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপত্তির একটি হলো ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগের সীমাবদ্ধতা। তিনি উদাহরণ হিসেবে বেআইনিভাবে জামিন নাকচ, অভিযোগ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত এবং উপযুক্ত আইনি ভিত্তি ছাড়া চার্জ গঠনের মতো বিষয় উল্লেখ করেছেন।বার্গম্যানের মতে, এর ফলে এমন একটি বিচারব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কার্যকর জবাবদিহির সুযোগ সীমিত। তদন্তকারী, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের সিদ্ধান্ত দণ্ডাদেশের আগে অন্য কোনো আদালত পর্যালোচনা করতে না পারার বিষয়টিকে তিনি সমস্যাজনক হিসেবে তুলে ধরেছেন।তিনি আরও লিখেছেন, যখন দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আসে, তত দিনে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি বছরের পর বছর আটক থাকতে পারেন। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার আগের কোনো ভুলের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পরবর্তী সময়ে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।বার্গম্যান দাবি করেছেন, এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। তার লেখায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব বিধির দৃশ্যত লঙ্ঘন করে অনেক অভিযুক্তকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে এবং অভিযোগ গঠন করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের মৌলিক ধারণাকে ভুলভাবে বোঝার প্রতিফলন দেখা যায়।এ প্রসঙ্গে টেলিভিশন নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তার মতে, এ ধরনের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। অন্য কোনো ফৌজদারি আদালতে এসব সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে বাতিলের সুযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।বার্গম্যানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না। কারণ তার মতে, বিচারপ্রক্রিয়ার রাজনৈতিকীকরণের বিষয়টিও গভীর। তবে ওই দুটি বিধান বাতিল করা হলে বিচারপ্রক্রিয়ার একটি বড় কাঠামোগত বাধা দূর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি সরকারের রয়েছে বলে লেখায় উল্লেখ করে বার্গম্যান বলেছেন, চাইলে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে ট্রাইব্যুনালে বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচার চলায় এমন পদক্ষেপকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার ঝুঁকি রয়েছে।আরেকটি পথ হিসেবে তিনি আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার কথা বলেছেন। তার যুক্তি হলো, ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী—এই ভিত্তিতে রিট করা যেতে পারে। এ ধরনের আবেদনের সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকা উচিত বলেও তিনি মত দিয়েছেন।তবে বার্গম্যান একই সঙ্গে লিখেছেন, ১৯৭১ সালের বিচারগুলোর মতো বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে আসা কিছু অভিযোগ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার লেখায় বলা হয়েছে, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আগের ১৫ বছর ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।তবে তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন যে মাত্রায় প্রমাণকে শক্তিশালী বলে দাবি করছে, বাস্তবে প্রমাণ তার তুলনায় দুর্বল। একই সঙ্গে আইনের ভুল প্রয়োগের ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি দাবি করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত না করা হলে এই বিচারপ্রক্রিয়া সব সময়ই অন্যায্য বিচারের প্রশ্নের মুখে থাকবে বলেও তিনি মনে করেন।বার্গম্যান আরও লিখেছেন, উপযুক্ত ভিত্তি ছাড়া দায়ের করা মামলা শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য অন্যায় নয়, বৈধ মামলাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তার মতে, এর ফলে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ১৯৭১ সালের বিচারগুলোর মতো বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে এবং প্রতিটি রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া অভিযুক্তদের কোনো ছাড় নয়। বরং তার মতে, এসব সাংবিধানিক অধিকার কার্যকর করা হলে ট্রাইব্যুনালের রায়গুলো বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টিকে থাকার ভিত্তি শক্ত হতে পারে।ডেভিড বার্গম্যান সাংবাদিক। লেখাটি ইংরেজি থেকে অনূদিত এবং মতামত লেখকের নিজস্ব।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: যে আদালত জবাবদিহি করতে বাধ্য নন