ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বলাৎকার ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর বার্তা: ডিআইজির

ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর, কোনো অবস্থাতেই ভুক্তভোগীর নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে কোনো শিশু সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও বাকি জীবন তাকে চরম মানসিক ট্রমা ও নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। আইনের শতভাগ কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপরাধীর উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে জেলা পুলিশ আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন’ শীর্ষক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সমাজে শিশু ও কিশোর নির্যাতনের নতুন ও বিপজ্জনক প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিআইজি বলেন, বর্তমানে ছেলে শিশুরাও বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা সমাজের চরম নৈতিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে। বিশেষ করে কিছু মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে এমন ঘটনা ঘটার নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, যাদের সমাজে ধর্মের নৈতিক আলো ছড়ানোর কথা, তাদের মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, পুরো চট্টগ্রাম রেঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া হবে না। যারা ছিনতাই বা মাদকে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বিপথগামী হওয়া ঠেকাতে সন্ধ্যার পর কোনো স্কুল বা কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে অকারণে বাইরে আড্ডা দিতে দেখলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং অভিভাবকদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।অপরাধ দমনে পুলিশের সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরে ডিআইজি জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় যোগদানের পর বিগত তিন মাসে মাদক উদ্ধারের পরিমাণ দুই থেকে তিন গুণে উন্নীত হয়েছে এবং আসামি গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে প্রায় চার গুণ। এ সময়ে রেঞ্জভুক্ত এলাকা থেকে মোট ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। বক্তারা পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বহুমাত্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর জোর দেন।

বলাৎকার ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর বার্তা: ডিআইজির