ব্রিকসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ‘ট্রইকা’ ব্যবস্থা চান নরেন্দ্র মোদি
ব্রিকসের নেওয়া সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণে ‘ট্রইকা’ ব্যবস্থা চালু এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।শনিবার নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর জোটটির সভাপতিত্ব পরিবর্তন হলেও চলমান প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য কার্যকর অনুসরণব্যবস্থা প্রয়োজন।মোদির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগের, বর্তমান ও পরবর্তী সভাপতিত্বকারী দেশকে নিয়ে একটি ‘ট্রইকা’ কাঠামো গঠন করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্রিকসের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।এর পাশাপাশি তিনি একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরির কথা বলেন। সেখানে ব্রিকসের প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় এবং কাজের অগ্রগতি সংরক্ষণ করা হবে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তির পর এখন জোটটির সামনে আগামী দুই দশকের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নতুন ও উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালীতেও পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বক্তব্য দেন মোদি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর দীর্ঘায়িত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার ও নেতৃত্বের কাঠামো বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।তার মতে, বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথ এখনো পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে না।এই বৈষম্য দূর করতে প্রতিনিধিত্ব, কার্যকর সাড়া এবং নিয়ম প্রণয়নকে ভিত্তি করে ১০ দফার একটি সংস্কার রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দেন মোদি। আগামী ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত কাঠামো তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।এদিকে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এবারের সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিয়ে সদস্য দেশগুলো সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভিন্ন কৌশলগত অবস্থানের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।ভারতের সভাপতিত্বে এবারের ব্রিকস সম্মেলনের প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে ‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’। সম্মেলনে জোটটিকে আরও কার্যকর, বাস্তবমুখী ও ফলাফলনির্ভর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।