হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি নির্ধারণের ইঙ্গিত
সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ৬০ দিন কোনো ফি আদায় না করার কথা থাকলেও এর পর কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দুলরেজা রহমানি ফাজলি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ফি নির্ধারণ করা হবে। তবে তাঁর দাবি, এটি টোল নয়, বরং সেবা ফি।[BANGVIEWS-POST:1212]শনিবার বেইজিংয়ে ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ওমানের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। নতুন নীতিমালার আওতায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, তদারকি এবং পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার জন্য সেবা ফি নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ কঠিন সময়ে ইরানের পাশে ছিল এবং তেহরানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন অবস্থান নিয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বিবেচনা করা হবে। ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ফি আরোপের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ফি মওকুফের কথা জানানো হয়। ওই সময় জাহাজগুলোকে নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি মেনে চলতে এবং আগে থেকে ট্রানজিট আবেদন জমা দিতে বলা হয়। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। তাই জাহাজ চলাচলে যেকোনো ফি বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।[BANGVIEWS-POST:1208]যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে একতরফা অর্থ আদায় বা চলাচল নিয়ন্ত্রণের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও নৌপথ ব্যবস্থাপনার খরচ মেটাতেই ভবিষ্যৎ ফি কাঠামো প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স