ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেবে সরকার

হাম-রুবেলার টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে টিকা পায়নি, বিশেষ কর্মসূচিতে তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা এবং টিকা গ্রহণের উপযুক্ত হওয়া শিশুদেরও এর আওতায় আনা হবে।তিনি জানান, চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করা, রোগের নজরদারি বাড়ানো এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘হাম-রুবেলা ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা তৈরি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্যের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণ এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হাম-রুবেলার টিকার বাইরে রয়েছে।বিশেষ করে বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে টিকা না নেওয়া শিশুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে নতুন এই ক্যাচ-আপ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবার শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে অপেক্ষা না করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।তিনি আরও জানান, কর্মসূচি চলাকালে যেসব শিশু ছয় মাস বয়সে পৌঁছাবে, তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়টিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো শিশু নির্ধারিত দিনে বয়সের কারণে টিকা নেওয়ার উপযুক্ত না হলেও পরে উপযুক্ত বয়সে পৌঁছালে তার টিকা নিশ্চিত করার উদ্যোগ থাকবে।আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবেন।

বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেবে সরকার