১৬ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ আইনমন্ত্রীর
বিগত সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইমের একটি প্রতিবেদনে গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত পদ্ধতিতে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে গেছে।[BANGVIEWS-POST:2548]তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক, ব্যবসা ও সম্পদে বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য তার ব্যক্তিগত দাবি নয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি তুলে ধরছেন বলে জানান।উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অর্থ পাচারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে।পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে দেখানো হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। রাস্তা নির্মাণ কিংবা প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ না থাকলেও প্রকল্পের অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের এমন অপব্যবহার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে দুর্নীতি বিভিন্ন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের কারণে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাও কমেছে।বর্তমান সরকার আইনের শাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, একটি স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইনজীবী, বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।[BANGVIEWS-POST:2547]নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে সততা, যোগ্যতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার ধরে রাখতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য সমাজের সব স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নানসহ বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও বার কাউন্সিলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।