ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৬ ছেলের পাকা ঘর, কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন না মা

ছয় ছেলের প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব পাকা বাড়ি, অথচ বার্ধক্যে এসে ৮৫ বছর বয়সি গর্ভধারিণী মায়ের জন্য কারও ঘরে জুটল না একটি ছোট কক্ষ। এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে ছেলেদের কারও ঘরে প্রবেশ করতে না পেরে বন্ধ দরজার সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে ছিলেন এক অসহায় মা। চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ঘটে যাওয়া এই চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বৃদ্ধার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার পারিবারিক সমঝোতা শেষে জয়নব ভানুকে তাঁর সৌদি প্রবাসী সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের পাকা ভবনে তুলে দেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন।শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব কাদরা গ্রামের প্রয়াত সৈয়দ আহমদের স্ত্রী জয়নব ভানু বহু বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। তাঁদের সংসারে রয়েছে ছয় ছেলে ও চার মেয়ে। অভিযোগ রয়েছে, বাবার রেখে যাওয়া পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এই বয়সে কোনো ছেলেই মাকে নিজের ঘরে স্থায়ীভাবে জায়গা দিতে রাজি হননি। দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে নিজ ভিটায় ফেরেন জয়নব ভানু। তবে একের পর এক ছেলের বন্ধ দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সাড়া মেলেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় বসে আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে স্বামীর ভিটায় নিজের থাকার জন্য সামান্য একটি কুঁড়েঘর তুলে দেওয়ার আকুতি জানান এই বৃদ্ধা। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নজরে এলে তাঁরা বৃদ্ধার মেয়ে ঝর্ণা বেগমকে খবর দেন এবং ঝর্ণা এসে মাকে সাময়িকভাবে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হৃদয়বিদারক। জয়নব ভানুর ছয় ছেলের প্রত্যেকের পাকা দালান রয়েছে, অথচ কারও ঘরে মায়ের থাকার জায়গা নেই। আমরা বিষয়টি জানার পরই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তাঁকে সেজো ছেলের পরিবারে তুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। দুই মাস পর আমি নিজে গিয়ে তাঁর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এ ছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারকেও সার্বক্ষণিক তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”এদিকে দায়িত্ব এড়ানোর বিষয়ে মেজো ছেলে আবুল কাশেমের দাবি, তাঁর মা দীর্ঘ এক বছর কোথায় ছিলেন তা তিনি জানতেন না। বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী জানান, বৃদ্ধা অল্প কিছুক্ষণ তাঁদের দরজায় বসেছিলেন, এরপর কী হয়েছে তা তিনি জানেন না। সেজো ছেলে আনোয়ারের স্ত্রীর দাবিও প্রায় একই। তবে বৃদ্ধার মেয়ে ঝর্ণা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ২০ বছর ধরে আমার ভাইয়েরা মায়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করছে। ছেলেরা চায় কোনোভাবে মাকে যেন আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায়।” জানা গেছে, ছয় ছেলের মধ্যে দুজন দেশে থাকেন এবং বাকি চারজনই প্রবাসী।চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম বেলাল জানান, বার্ধক্যে এসে একজন মায়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিকভাবে এসব ছেলেদের কঠোর বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

৬ ছেলের পাকা ঘর, কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন না মা