ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আধুনিক করতে সিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ বা সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।[BANGVIEWS-POST:777]প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অটোমেশন নিশ্চিত করতেই সিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রম আরও আধুনিক ও সমন্বিত করা হবে।তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে।জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে করদাতার সংখ্যা বাড়বে এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারিত হবে। সিটা প্রকল্প এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাজেট এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় ছোট। অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তাই অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা জরুরি। সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব ও কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে।তিনি বলেন, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ করবে।সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে জোনায়েদ সাকি বলেন, সব ধরনের সরকারি ক্রয় ও দরপত্র কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী করতে বিবিএসকে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করা হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা হবে।তিনি জানান, পরিকল্পনা বিভাগ এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়্যার ও তথ্যভান্ডার পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এতে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।[BANGVIEWS-POST:775]জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্ধারিত সময় ও ব্যয় সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আধুনিক করতে সিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার