ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জেলেদের ৫ টন চাল চুরি, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল অন্যত্র নেওয়া ও বিক্রির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ও চাল পরিবহনের কারণ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সোমবার (১২ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। এর আগে রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালসহ একটি মিনি ট্রাক জব্দ করে প্রশাসন। পরে জব্দ করা চাল চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার বা সিএসডি গুদামে সরকারি হেফাজতে রাখা হয়।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চালগুলো মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে কর্মহীন নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছিল। জব্দের সময় চালগুলো চাঁদপুরের বাইরে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চাল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত পিকআপচালক শাহাদাতের ভাষ্য, তিনি চাঁদপুরের সিএসডি গুদাম থেকে চাল নিয়ে কুমিল্লার লাকসামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তাকে চাল নিয়ে ফিরে আসার জন্য ফোন দেওয়া হয়। তার কাছে থাকা টোকেনে চালের পরিমাণ ৪ হাজার ৯৩০ কেজি লেখা ছিল বলে জানান তিনি। চালের ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যবসায়ী ইউনুস দাবি করেছেন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় প্রায় পাঁচ টন চাল কিনেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের পর সেগুলো জেলার বাইরে পাঠানো হচ্ছিল।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম মোস্তফা শামীম। তার দাবি, গুদাম থেকে চাল ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়ার কথা ছিল। তিনি চাল ট্রাকে তুলে দিয়ে পরিষদে চলে যান। পরে জানতে পারেন, চালবোঝাই গাড়িটি অন্যদিকে চলে গেছে। তার ভাষ্য, চাল বিক্রির সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। শামীম আরও দাবি করেন, ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল ধাপে ধাপে গুদাম থেকে আনা হচ্ছিল। চাল পরিবহনের সময় গাড়ির সঙ্গে ইউনিয়নের কর্মী না থাকায় চালক কেন নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্যদিকে চলে গেলেন, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি চাল অন্যত্র নেওয়া ও বিক্রির অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন। চাল জব্দ, ক্রেতার বক্তব্য এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনাটি কী, তা তদন্ত প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

জেলেদের ৫ টন চাল চুরি, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত