ভারতের গ্রামীণ স্কুলে শিশুদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সামুই ভাটপুরওয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশ না করে ধর্মঘট পালন করছে। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।বিদ্যালয়ের পুরানো ভবনের একটি দেয়াল ধসে গত বছর এক ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পরও মেরামত হয়নি। ভবনটির কিছু অংশ এখনো ধ্বংসস্তূপের আওতায় এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যাচ্ছে না। তারা নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফিরবে না বলে জানায়। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে কয়েকজন ভারতের জাতীয় পতাকা ধারণ করে লক্ষ্যণীয় হয়েছে।শিক্ষার্থীদের ধর্মঘটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষা বিভাগের একজন প্রধান আধিকারিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের এই দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে যায়।এই ধরনের প্রতিবাদ দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ স্কুলগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশসহ অন্তত ১০টি রাজ্যের স্কুলে চলমান স্কুলপড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবির প্রতিবাদ সংঘটিত হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার সুযোগ ও পরিবেশ উন্নয়নে অবহেলা ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা অধিকারকর্মী আকাশ সরকার বলেন, “শিশুদের যদি সঠিক পরিবেশে শিক্ষা না দেওয়া হয়, ভারতের উন্নয়ন বিলম্বিত হবে।”এদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমান আন্দোলনগুলোকে অনেকেই ‘জেন আলফা’ আন্দোলনের সূচনা হিসেবে দেখছেন, যা জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভের পরে শুরু হয়েছে।বর্তমানে ভারতের ৩০ শতাংশেরও বেশি জনগোষ্ঠী ১৮ বছরের নিচে ও আগামী কয়েক বছরে তারা ভোটার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। স্কুল শিক্ষার্থীদের এই সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।