নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
আসন্ন ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে দেশটির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সমর্থন দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতিতে না জড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম) দিকেই নিজের পূর্ণ মনোযোগ ও শ্রম নিয়োজিত রাখতে চান বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জ্যেষ্ঠ মার্কিন সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। এর মাত্র এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য ও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন।সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমি তাকে (নেতানিয়াহু) সমর্থন করার বিপক্ষে নই, আবার সমর্থনের পক্ষেও নই। মূল বিষয় হলো, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে আমি কোনোভাবেই জড়াচ্ছি না।” নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থন করি। আমার মূল লক্ষ্য ও মনোযোগ এখন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরেই কেন্দ্রীভূত।” এর আগে গত এপ্রিল মাসে হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে সাবেক কট্টরপন্থি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ভ্যান্স; তবে ওই নির্বাচনে পিটার ম্যাগয়ারের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন অরবান।ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর উভয় মেয়াদের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে এসেছেন। প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর, গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি প্রদান এবং ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করেছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরেও ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলে সামরিক ও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর চাপ বাড়িয়েছে।বিপরীতে, ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী জেডি ভ্যান্স দলটির ভেতর ইসরায়েলকে ‘নিঃশর্ত সামরিক ও আর্থিক সহায়তা’ দেওয়ার বিরোধিতাকারী অংশের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে মার্কিন নাগরিকদের অর্থনৈতিক বোঝা বৃদ্ধি পাওয়ায় কনজারভেটিভ ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র রূপ নিয়েছে। যদিও ভ্যান্স সামগ্রিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি মার্কিন সামরিক মিত্রতার পক্ষে থাকার কথা জানিয়েছেন, তবে জোটের প্রতি তাঁর কট্টর মনোভাব নিয়ে ইহুদি রিপাবলিকানদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। গত জুন মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছিল নেতানিয়াহু প্রশাসন; সে সময় ভ্যান্স কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য আপনারা কেবল মানুষ হত্যা করে যেতে পারেন না।” পাশাপাশি তেল আবিবকে সতর্ক করে তিনি বলেছিলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে ট্রাম্পই ইসরায়েলের একমাত্র অবশিষ্ট শক্তিশালী মিত্র।হোয়াইট হাউসের শীর্ষ দুই নেতৃত্বের এই দ্বিমুখী বার্তা—ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ভ্যান্সের প্রকাশ্য দূরত্ব—আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল লিকুদের ওপর কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে লিকুদ পার্টির তুলনায় সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যপন্থি দল ‘ইয়াশার পার্টি’ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। আইজেনকোট ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তিনি অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।সূত্র:আল-জাজিরা