এস আলমের স্বার্থ রক্ষায় সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে ছড়িয়েছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবির কিছু অংশ নথিভুক্ত হলেও গুরুতর অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ও সমসাময়িক সংবাদ অনুযায়ী, মো. সাহাবুদ্দিন ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। পরে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন।[BANGVIEWS-POST:2429]বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদনে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আরমাডা স্পিনিং মিলস, গ্র্যান্ড বিজনেস, এবিসি ভেঞ্চারস, প্লাটিনাম এনডেভার্স ও ব্লু ইন্টারন্যাশনাল।প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বিবরণে জেএমসি বিল্ডার্স কিংবা মো. সাহাবুদ্দিনের নাম নেই। ফলে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি শেয়ার কেনা বা এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন—এ দাবি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।একইভাবে ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ, ৪২ পৃষ্ঠার বিশেষ প্রতিবেদনে সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততা, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধান এবং লন্ডনভিত্তিক ‘The Lloyd’-এর অনুমোদনসংক্রান্ত দাবির পক্ষে কোনো প্রকাশ্য আদালতের নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।[BANGVIEWS-POST:2424]সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে—এ দাবিটিও উন্মুক্ত আদালতের নথি বা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।সুতরাং, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান থাকার তথ্য সত্য। তবে ব্যাংক দখল, শেয়ার জালিয়াতি কিংবা অর্থ আত্মসাতে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার দাবিগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার প্রামাণ্য নথি ছাড়া এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।