ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

হারারেতে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশ করল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে ভালো অবস্থানে থাকলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৩ রানে হেরে যায় সফরকারীরা। এ জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে।লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৩ রানেই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। ব্লেসিং মুজারাবানির বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১০ বলে ৫ রান করেন এই ওপেনার।[BANGVIEWS-POST:1506]এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান ইনিংস গুছানোর চেষ্টা করেন। তবে শান্ত বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্রেইগ আরভিনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৬ বলে ৯ রান করে ফেরেন তিনি। এতে দলীয় ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।এক প্রান্ত ধরে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে ৭০ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্রায়ান বেনেটের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ৫৭ রানে বোল্ড হন তানজিদ। তার বিদায়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রানের জুটি পায় বাংলাদেশ।তানজিদ আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংসে চাপ বাড়তে থাকে। তাওহীদ হৃদয় ৭ রান করে মুজারাবানির বলে মিড-অনে ক্যাচ দেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনও ৭ রানে ফিরে যান রিচার্ড এনগারাভার বলে।নুরুল হাসান সোহান কিছুটা লড়াই করেন। কয়েকটি বাউন্ডারিতে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করলেও তিনি ৪১ বলে ৩৮ রান করে ফিরলে জয়ের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে যায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান তিনি। এরপর তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে পাঠান তাসকিন।নবম ওভারে নাহিদ রানার গতির সামনে বোল্ড হন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। ওয়েসলি মাধেভেরে ১৫ রান করে আউট হলে ৬৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।সেখান থেকে জিম্বাবুয়েকে টেনে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। রাজা ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হলেও কারান দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন। পরে ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন কারান।[BANGVIEWS-POST:1482]১২২ বলে শতক পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কারান। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ব্র্যাড ইভান্স ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ নেন দুটি উইকেট। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট পান।ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে এখন সফরকারীদের সামনে অন্তত একটি জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করার চ্যালেঞ্জ।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ