ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জামিয়া মিলিয়া ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই দশক ধরে স্থগিত থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার তাঁবু নিরাপত্তাকর্মীরা জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব পাঠদান কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার অবস্থানস্থলে থাকা তাঁবু উপড়ে ফেলতে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা। তাঁবুর নিচে অনশনরত শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভি দাবি করেন, শুক্রবার ক্যাম্পাসে কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য—ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদের সফর শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই দুই এমপি নিরাপত্তা কর্মীদের এড়িয়ে দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, যা ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করেছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।অন্যদিকে, কংগ্রেস এমপি ইমরান প্রতাপগড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু বলপ্রয়োগ করে ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে জামিয়া প্রশাসন তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকারের পাশে থাকতে প্রয়োজনে আবারও ক্যাম্পাসে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে এ লাগাতার আন্দোলন চলছে। ভারতের কমিউনিস্টপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) অভিযোগ করেছে, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ অনশনে নিরাপত্তা কর্মীদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের দেয়ালে জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত স্লোগান লেখার ঘটনায় বিজেপি তদন্তের দাবি তুললেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আবিন বাসিলের অভিযোগ, মূল দাবি থেকে নজর ঘোরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই নাটকীয়ভাবে এসব স্লোগান লিখিয়েছে।উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতার জেরে ‘জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (জেএমআইএসইউ) বিলুপ্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে লিংডোহ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস।সূত্র: এনডিটিভি

জামিয়া মিলিয়া ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত