২০২৭ সালের জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে নতুন মজুরি কার্যকরের দাবি
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য পুনর্নির্ধারিত নতুন ন্যূনতম মজুরি আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে নতুন মজুরি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রয়োজনে দিন-রাত এক করে আলোচনা চালিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার।সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আক্তার উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাকশ্রমিকদের জন্য সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বিদ্যমান মজুরির তিন বছর পূর্ণ হবে। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজারদরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার যে মজুরিই পুনর্নির্ধারণ করা হোক না কেন, তা যেন ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে প্রতিটি শ্রমিকের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।মজুরি বোর্ডের কার্যপদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না। অতীতে যেভাবে ১৫ দিন পরপর বৈঠক হতো কিংবা কোনো প্রতিনিধি বিদেশে থাকার অজুহাতে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হতো, এবার তেমনটি করা যাবে না। একটি বৈঠকের পর সর্বোচ্চ এক বা দুই দিন বিরতি দিয়ে নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে; প্রয়োজনে সারা রাত বৈঠক করে হলেও দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।বোর্ড গঠনে দেরির অভিযোগ তুলে বাবুল আক্তার বলেন, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বোর্ড পুনর্গঠন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক দেরিতে তা করা হয়েছে। এর মধ্যে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকনেতা ও সাধারণ শ্রমিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তার শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।একই সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশে বাবুল আক্তার বলেন, কারখানা চালু রাখা শ্রমিকদের নিজেদের স্বার্থেই জরুরি। তাই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া সহিংস আন্দোলন-সংগ্রামে না জড়িয়ে অবিলম্বে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা আনোয়ার হোসাইন জানান, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ে সভা আয়োজনের জন্য আজ অথবা আগামীকালকের মধ্যেই শ্রমিকপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে মজুরি বোর্ডের সভা ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি নাজমা আক্তার, মোছা. সুলতানা বেগম, লাভলী ইয়াসমিন, খালিকুজ্জামান লিপু, সোহেল রানাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।