ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চুয়েট সংকট নিরসনের দাবিতে আজ শাহবাগে সমাবেশ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।এদিকে সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা। একই সঙ্গে চুয়েট শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিবৃতি দেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে চুয়েটের চলমান পরিস্থিতির গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।বিবৃতিতে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান ও গবেষণার স্থান নয়, এটি স্বাধীন চিন্তাভাবনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ গড়ে তোলারও প্রতিষ্ঠান। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করা উচিত নয়।আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন ছিল।তাদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা শুধু নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্য অংশীজনদের আস্থা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ।চুয়েট শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছ, যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।অন্যদিকে চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তালা ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহফুজ শুভ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।এদিকে চুয়েটের আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।সংগঠনগুলোর প্রধান দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়।সোমবার সকালে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আবারও কার্যালয়ের ফটকে তালা লাগিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন।মঙ্গলবারও উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরবরাহ করা প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম তখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

চুয়েট সংকট নিরসনের দাবিতে আজ শাহবাগে সমাবেশ