রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। বুধবার গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি, বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কারিগরি বিভিন্ন বিষয় দ্রুত সমাধানে বর্তমানে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন। প্রকল্পের প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান আলেক্সান্দার খোজিন। এ ছাড়া মস্কোতে একটি বড় পরিসরের রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় দুই দেশের আন্তসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। প্রস্তাবিত ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিটুবি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিকের মতো খাতে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি রাশিয়ায় দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরেন।রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় রাশিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির কৃষি, মৎস্য, জাহাজনির্মাণ ও সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে।