ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভারতে শিক্ষার্থী ও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধে জাতিসংঘের বিবৃতি

ভারতে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিরোধীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং দমনপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেপরোয়া আচরণ এবং নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের ২৪ জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ভারতের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ অবস্থান তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্স।বিরোধী রাজনৈতিক দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দমনে পুলিশের আগ্রাসী পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। বিবৃতিতে তাঁরা জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটাসহ মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের স্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিক্ষোভস্থল ও আটক অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর যৌন সহিংসতা এবং লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়ন চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের দল এক যৌথ বার্তায় বলেন, “আমরা ভারতের কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর দেওয়া নির্বিচার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বায়োমেট্রিক নজরদারিসহ যেকোনো ধরনের ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।” পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের স্বাধীনভাবে সমাবেশে যোগদানে বাধা সৃষ্টি না করতেও প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়।চলতি মাসে ভারতে এই তুমুল গণবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দল ও বিরোধী শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে রাজপথে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে জাতীয় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম নিয়মবহির্ভূতভাবে বাদ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।বিক্ষোভকারী ও বিরোধী নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের দরিদ্র, গৃহহীন এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিম নাগরিকও রয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় অংশই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থক নন বলেই ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা চলছে।যদিও কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) বিরোধীদের আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো বিশেষ সম্প্রদায় নয়; বরং ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ভোটার, একাধিক স্থানে নাম থাকা নাগরিক ও নিয়ম অনুযায়ী অযোগ্য ব্যক্তিদের নামই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হচ্ছে। কোনো নাগরিকের নাম ভুলবশত বাদ পড়লে আইনগতভাবে তিনি নির্ধারিত ফরমে আপিল করার পূর্ণ সুযোগ পাবেন বলেও দাবি করেছে কমিশন।সূত্র: আল জাজিরা 

ভারতে শিক্ষার্থী ও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধে জাতিসংঘের বিবৃতি