ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রসূতি ছুটির বৈষম্যমূলক বিধান নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

কোনো নারী কর্মীর দুইবারের বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি না পাওয়া এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস চাকরি না করলে এই ছুটি না পাওয়ার বিধান নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।রুলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:850]হাইকোর্টের রুলে সরকারের কাছে তিনটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(১) ধারার প্রভিসো, ৪৬(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল কেন সংবিধানের মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না।একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কেন ব্যর্থ হয়েছে এবং সব কর্মজীবী নারীর জন্য কেন অভিন্ন মাতৃত্বকালীন সুবিধা নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।এর আগে গত ১৫ জুন কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়। এটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।রিটে আরও বলা হয়, তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন নীতিমালা থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই রিট করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:854] তিনি বলেন, মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা ও শ্রম অধিকারে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

প্রসূতি ছুটির বৈষম্যমূলক বিধান নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের