চুয়াডাঙ্গায় বসতবাড়ির দেয়ালে রাজনৈতিক স্লোগান, পুলিশের তদন্ত
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকের শেখপাড়ার একটি গলিতে বসতবাড়ির দেয়ালে ও প্রাচীরে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ এবং ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’সহ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনায় তীব্র আলোচনা, সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর দেয়ালে এসব বিতর্কিত রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে শেখপাড়ার ওই গলির একটি বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরে লেখাগুলো স্থানীয়দের চোখে পড়ে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগের দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী জন্মদিনের উৎসব উদ্যাপনের কথা বলে ওই গলিতে সমবেত হয়। পরবর্তীতে তারা কালো ও সাদা রঙের স্প্রে ব্যবহার করে বসতবাড়ির প্রাচীরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট স্লোগানগুলো লিখে এলাকা ত্যাগ করে।ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগে দেয়ালের লেখাগুলো সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এসে বসতবাড়ির দেয়ালে এভাবে উসকানিমূলক রাজনৈতিক স্লোগান লিখবে—তা এলাকাবাসীর কাছে একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি জানার পরপরই জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের পাঠিয়ে দেয়াল থেকে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা গেছে। কোনো বহিরাগত মহলের প্ররোচনায় শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় স্থানীয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তির নির্দেশনা কিংবা প্ররোচনায় তারা দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।