সিডেন্ট হিসেবে ১৪ বছর পূর্ণ করলেন শি জিনপিং: বিবিসি প্রতিবেদন
চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ১৪ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করছেন শি জিনপিং। দীর্ঘ এই শাসনামলে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে পুনর্গঠন করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এনেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশদ বিশ্লেষণে তার এই দীর্ঘ নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে চীনের প্রভাবকে অভাবনীয় মাত্রায় বিস্তৃত করেছেন শি। একই সঙ্গে পশ্চিমা আধিপত্যের বিপরীতে বেইজিংকে তিনি ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থরক্ষাকারী প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে এর বিপরীতে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক মহড়া বৃদ্ধি, তাইওয়ানের ওপর ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ায় অনেক গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শি জিনপিংয়ের শাসনকাল পরিচিতি পেয়েছে কঠোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও মতাদর্শিক শৃঙ্খলার জন্য। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি শিনজিয়াং, তিব্বত ও হংকংয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন—যা সমর্থকদের মতে বিচ্ছিন্নতা রুখে শৃঙ্খলা ফিরিয়েছে, তবে পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠন ও সমালোচকদের মতে তা নাগরিক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করেছে। তিনিই প্রথম ‘নতুন যুগের জন্য চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্র বিষয়ে শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারা’কে দলীয় সংবিধানে স্থান দিয়েছেন, যা মাও সেতুং ছাড়া পূর্ববর্তী কোনো নেতা সহজে করতে পারেননি। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির দুই মেয়াদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বাতিল করে অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করেছেন তিনি।বিশ্বরাজনীতিতে এবং চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শি জিনপিংকে অত্যন্ত গম্ভীর ও কঠোর ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও ব্যক্তিজীবনে তার একটি হালকা মেজাজের দিক রয়েছে। ফুটবলের অনুরাগী শি জিনপিং একবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চীনা পুরুষ ফুটবল দলের পারফরম্যান্স নিয়ে রসিকতা করে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে সাধারণ পাব-এ বিয়ার পান করা কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে উপহার দেওয়া শাওমি ফোনে কোনো ‘ব্যাকডোর’ নজরদারি আছে কি না তা আগেভাগেই যাচাই করে দেখতে রসিকতা করার ঘটনাগুলো তার কূটনীতির অপ্রকাশিত মানবিক দিক হিসেবেই দেখা হয়।সূত্র: বিবিসি নিউজ