ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬ চিংড়ি মহাল সচলে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ

চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আইনি জটিলতা নিরসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে আনা, চিংড়ি মহালের খাজনা নতুন করে নির্ধারণ এবং আগের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৈঠকে বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।একই সঙ্গে যেসব জমিতে বনাঞ্চল নেই, সেগুলো বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।চিংড়ি চাষের উপযোগী খাসজমি এবং যেসব খাসজমিতে ইতোমধ্যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে, সেগুলো দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।তবে জমি ফেরত আনা ও অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।বৈঠকে কক্সবাজারের দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) করা হাইকোর্টের ৭৪৮৩/২০১২ নম্বর রিট মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এসব মহালের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।মামলার জটিলতা দূর করে মহালগুলো সচল করতে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।তবে আদালতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য থাকবে।চিংড়ি মহালের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে ১৯৯২ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কমিটিগুলোও নতুনভাবে সাজানো হবে।এ ছাড়া চিংড়ি মহালের খাজনা পুনর্নির্ধারণ এবং আগের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর ও সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।সরকারি রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ইজারা দেওয়া জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে পারবে।পাশাপাশি উপকূলীয় বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এ প্রসঙ্গে ১৯৮০-এর দশকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুন্দরবন নিধনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, চিংড়ি খাতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও কয়েক দশকের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।একই সঙ্গে চিংড়িচাষিরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন ও প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।ভূমিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল রাজস্ব বাড়ানো নয়। চিংড়ি খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা এবং তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।বৈঠক শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতের অনিয়ম দূর করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হয়রানি ছাড়া স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬ চিংড়ি মহাল সচলে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ