ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও চামড়াশিল্প: তুরস্কের মডেলে চোখ ঢাকার!

নগর ও বিভিন্ন কারখানার শিল্পবর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী চামড়াশিল্পের পরিবেশবান্ধব আধুনিকায়নে তুরস্কের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক পরিচালন পদ্ধতি ও শিল্প অবকাঠামোগত মডেল সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে তুরস্কের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক নগরী ইস্তাম্বুলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিল্পমন্ত্রীর এই ফলপ্রসূ পরিদর্শনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা, দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের এক নতুন সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।সফরের অংশ হিসেবে গত ৪ নভেম্বর ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির সর্বাধুনিক বর্জ্য দহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (Waste-to-Energy Plant) পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা গৃহস্থালি কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধাপে ধাপে প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। ইস্তাচ (İSTAÇ) পরিচালিত এই সুবিশাল কেন্দ্রের দৈনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন এবং এর স্থাপিত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট।বাংলাদেশের জনবহুল প্রধান নগরীগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসন এবং উন্মুক্ত ভাগাড়ের ওপর পরিবেশগত চাপ হ্রাসে এ ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশে এ ধরনের প্রযুক্তি চালুর আগে স্থানীয় বাস্তবতা, অর্থনৈতিক উপযোগিতা এবং পরিবেশগত প্রভাব নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।একই দিন তুজলায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (আইডিওএসবি) পরিদর্শন করেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। জোনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জেলাল কোপুজ, প্রশাসনিক প্রতিনিধি এবং তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শিল্পাঞ্চলটির পরিচালনা কৌশল ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান তুলে ধরেন। এ সময় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল স্থাপন, অভিন্ন অবকাঠামোর সুষ্ঠু ব্যবহার এবং চামড়া উৎপাদনে বিশেষায়িত কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার (সিইটিপি) ভূমিকা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়, যা সাভারসহ বাংলাদেশের চামড়া শিল্পনগরীগুলোর আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক মান নিশ্চিত করতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।পরবর্তীতে মন্ত্রী ‘জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেড’-এর রপ্তানিমুখী কারখানা ঘুরে দেখেন এবং কাঁচা চামড়া থেকে ফিনিশড চামড়া তৈরির স্বয়ংক্রিয় ধাপগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।এরপর ৫ নভেম্বর শিলেতে অবস্থিত ‘এনারগ্রম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি’ পরিদর্শন করেন শিল্পমন্ত্রী। এই কেন্দ্রটিতে কলকারখানার অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক ও ক্ষতিকর শিল্পবর্জ্য আধুনিক তাপীয় প্রক্রিয়ায় পরিবেশসম্মতভাবে শোধন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কেন্দ্রটির বার্ষিক শিল্পবর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ৩৩ হাজার টন এবং স্থাপিত বিদ্যুৎ ক্ষমতা ৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট।মন্ত্রণালয়ের মতে, উপযুক্ত বর্জ্য শোধন ও শক্তি পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি গ্রহণ করা গেলে দেশে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে সম্পূরক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় ও তুরস্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সুগম হবে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও চামড়াশিল্প: তুরস্কের মডেলে চোখ ঢাকার!