চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গে জবির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
আর্থ অবজারভেশন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের (CAS) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। গত ১৪ সেপ্টেম্বর চীনের সাংহাইয়ে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেটা নেটওয়ার্ক ফর আর্থ অবজারভেশন (IDN4EO)-এর অধীনে বাংলাদেশে একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ (ICoE-Bangladesh) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থ অবজারভেশন ডেটা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক লি গুওছিং। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে উপাচার্য বাংলাদেশ থেকে ভিডিও বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সাংহাইয়ে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও ড. মো. আব্দুল মালেক।ভিডিও বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, এ সমঝোতা স্মারক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়; এটি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উন্নত গবেষণা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং গবেষণা সক্ষমতা জোরদারে এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লাওস এবং থাইল্যান্ডের মাহানাকর্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় দুটিও চীনা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আর্থ অবজারভেশন, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা সহযোগিতার একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে ICoE-Bangladesh প্রতিষ্ঠা, ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।সমঝোতা স্মারকের আওতায় কৃষি পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগকালীন জরুরি সাড়া প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক পণ্য (data products) উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি মানসম্মত ডেটাসেট, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-উপযোগী ডেটাসেট যৌথভাবে উন্নয়নের সুযোগ থাকবে।এ ছাড়া শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ, জনবল বিনিময়, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্মেলন ও বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এ অংশীদারিত্বের জন্য চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক আর্থ অবজারভেশন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হবে।সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ নবায়ন করা যাবে। স্বাক্ষর শেষে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও ড. মো. আব্দুল মালেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অনুলিপি হস্তান্তর করেন।