চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২০ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম সীমানায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ২০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মাছ ধরার নৌকা এবং শিকার করা ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেলা টাস্কফোর্সের আওতায় পদ্মা-মেঘনার মোহনা ও সংলগ্ন অভয়াশ্রম এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা।দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন—শুক্কুর শেখ (২৫), মফিজ গাজী (৬০), সাব্বির গাজী (১৮), ফরহাদ গাজী (১৯), হাবিব খান (২০), তোফাজ্জল হোসেন (৫৫), সিয়াম পাটওয়ারী (২২), আলমগীর হাওলাদার (২৫), শহীদ গাজী (২৬), মো. আব্বাস (৪০), রিপন মিয়াজী (২০), মো. মাসুদ (৪১), নুর মোহাম্মদ (৩৫), দেলু সরদার (৪৫), মো. শাকিল (১৯), কালু খান (৩০), মো. হাবিব (৩৫), মো. হাবিব খান (৪০), মো. বারেক (২৮) এবং মো. রবিউল ইসলাম (১৯)। সাজাপ্রাপ্ত সকল জেলের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।অভিযানে অংশ নেওয়া চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ৫ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে অভয়াশ্রম থেকে হাতেনাতে ২০ জেলেকে আটক করার পাশাপাশি ৩০ কেজি ইলিশ, ৩৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ৩টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক ২০ জনের মধ্যে ১৩ জনকে ১০ দিন করে এবং অপর ৭ জনকে ১৫ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। জব্দ করা তিনটি মাছ ধরার ট্রলার কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ৩৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল নদীর পাড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়।