ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ নিয়ে বিপাকে রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসি

পুলিশের চাকরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সমিতি। তবে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগেই সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানান, পুলিশের চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্য থাকা সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ কারণে ওসি মনজুর কাদেরকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আইন পেশার বাইরে অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও সমিতির সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সমিতির নথিতে মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সদস্যপদ ২০০২ সাল থেকে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওসির ভাষ্য, পুলিশে যোগ দেওয়ার আগেই ২০০৫ সালের ৬ মে বার কাউন্সিলের কাছে আবেদন করে সদস্যপদ স্থগিত করেছিলেন তিনি।মনজুর কাদের বলেন, ‘শুধু আমাকে নয়, আরও অনেককে এ ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’তার দাবি, নিয়ম মেনেই সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। এ কারণে সদস্যপদ বাতিলের সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। চাকরি শেষ হলে আবার আইন পেশায় ফেরার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান ওসি। সমিতির নোটিশের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত না থেকেও সদস্যপদ ধরে রাখা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। এতে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।ওসিকে পাঠানো নোটিশও ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা। তবে তার সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন সম্পর্কে সমিতি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো জানা যায়নি।এদিকে গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসি মনজুর কাদেরের বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা চেয়েও তা পাননি বলে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় থানায় যান তিনি। রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করেন সংসদ সদস্য।সেখানে রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন। তবে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন মনজুর কাদের। তার দাবি, ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় নিয়ে এসেছেন।বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’এর জবাবে মনজুর কাদের বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন। তাদের ধরতে গেলে নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’পরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তিনি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) তো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত।’সদস্যপদ স্থগিতের আবেদনটি বার কাউন্সিলে করা হয়েছিল বলে ওসি দাবি করেছেন। তবে ওই আবেদনের নথি বা এ বিষয়ে সমিতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ নিয়ে বিপাকে রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসি