ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তিতাসে ৫৬০০ মিটার গভীরে গ্যাসের খোঁজ, মিলতে পারে বড় মজুত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তিনটি কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে ৩১ নম্বর কূপটিকে দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে খনন করা হচ্ছে। তিনটি কূপের কাজ সফলভাবে শেষ হলে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সংগৃহীত ছবিব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস-৩১ কূপের খনন চলছে। কূপটির লক্ষ্য গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। গত ১৯ এপ্রিল খনন শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। কূপটি সফল হলে এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করছে বিজিএফসিএল। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে এর আগে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে আরও গভীর স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, তিতাস-৩১ ডিপ কূপের লক্ষ্য গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। সিসমিক স্টাডির ভিত্তিতে ৩১ নম্বর কূপের লক্ষ্য এলাকায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা ২ টিসিএফ গ্যাস থাকার সম্ভাবনা দেখছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। তবে খনন ও পরবর্তী পরীক্ষার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিমাণকে নিশ্চিত মজুত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও মজুত কমে আসায় উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত ছবিবর্তমানে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খনন চলছে। ২৯ নম্বর কূপে প্রায় ২ হাজার ৮৬০ মিটার পর্যন্ত খনন হয়েছে। কারিগরি জটিলতা না থাকলে এটি আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। এরপর একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানিয়েছেন, তিনটি কূপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। তার হিসাবে, ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ করতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক বলেন, দেশীয়ভাবে এই অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়া গেলে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর কিছুটা চাপ কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও সহায়তা মিলবে। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সালে এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র।

তিতাসে ৫৬০০ মিটার গভীরে গ্যাসের খোঁজ, মিলতে পারে বড় মজুত