ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেতানিয়াহু না আইজেনকোট, ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী জোটের মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট নয়। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।ইসরায়েলের দুটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তাঁর পরিবর্তন জোটের অন্য তিনটি দল মিলে ১২০ আসনের নেসেটে ৫১টি আসন পেতে পারে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থী ও অর্থোডক্স মিত্রদের জন্যও একই সংখ্যক আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে তৃতীয় একটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে তিন আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছিল।প্রাথমিক ফলাফলের আভাসে তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর সমীক্ষায় বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৫২ থেকে ৫৩ হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল।সমর্থকদের উদ্দেশে আইজেনকোট বলেন, ‘জনগণের সিদ্ধান্ত যেন একটি সিয়োনিস্ট সরকারে রূপান্তরিত হয় তা নিশ্চিত করব: যা সমস্ত ইসরায়েলি নাগরিকের জন্য স্থিতিশীল ও ভালো হবে।’তাঁর রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট এক ‘শোচনীয় পরাজয়ের’ মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে তেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইটজিক নামের এক লিকুদ সমর্থক বলেন, ‘সবকিছু শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি শেষ নয়, তবে আমি ঘামছি।’পরবর্তীতে বুথফেরত সমীক্ষার হিসাব হালনাগাদ করা হলে কান ও চ্যানেল ১৩ উভয় জোটের জন্য ৫১টি করে আসনের পূর্বাভাস দেয়। চ্যানেল ১২-এর হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি এবং আইজেনকোটের জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে।বুধবার ভোরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর ডানপন্থী জোটের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি একটি ‘শক্তিশালী, ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, দুটি আরব দল সম্মিলিতভাবে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা তাদের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আসন হতে পারে।দুটি দলের অন্যতম নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, ‘আমি আশা করি সংখ্যাগুলো মিলবে এবং আমরা, পরিবর্তন জোট ও ইউএএল মিলে নেসেটের ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারব।’অন্যদিকে, যৌথ তালিকার চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের উপেক্ষা করা যাবে না।’ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডোন সার বামপন্থীদের উদযাপনকে ‘অকালপক্ব’ বলে মন্তব্য করেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তাঁর সমর্থকদের প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে অনাবাসিক বা পোস্টাল ব্যালটে পড়া প্রায় ছয় লাখ ভোট বৃহস্পতিবারের আগে সম্পূর্ণ গণনা করা সম্ভব হবে না। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আমন্ত্রণ জানাবেন।ভোটারদের মধ্যেও নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। ৮৮ বছর বয়সী জিভিট আব্রামসন বিবিসিকে বলেন, তিনি আইজেনকোটকে ভোট দিয়েছেন, কারণ নেতানিয়াহু ‘এই দেশটিকে ধ্বংস করছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কেবল নিজেকে নিয়ে থাকেন, শুধুই নিজের জন্য।’অন্যদিকে, ক্লেয়ার টুগেনধাফট জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি মনে করি বহির্বিশ্বের দিকে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সেরা ব্যক্তি।’নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যদি ভোট না দেন, আমরা আগামীকাল এক বামপন্থী সরকার, আরব দল ও চরমপন্থীদের নিয়ে ঘুম থেকে উঠব এবং আমরা দেশকে হারাব।’এদিকে, ডানপন্থী দলগুলো রাত ১০টার পর ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি তা নাকচ করে দেয়। কমিটির বক্তব্য ছিল, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোটের সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই।নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো জোটই নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল এবং সরকার গঠনের আলোচনা এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি।

নেতানিয়াহু না আইজেনকোট, ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন