ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভোট আছে, আগ্রহও আছে, তবু দলিত নারীরা প্রার্থী হতে পারছেন না কেন?

ভোটার হিসেবে অধিকার থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়ছেন দলিত নারীরা। নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক দলের সমর্থনের অভাব, পারিবারিক বাধা এবং সামাজিক কটূক্তির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অধিকার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।বৈঠকে কেরানীগঞ্জে বসবাসকারী দলিত নারী সোনামনি মোদক বলেন, তাঁর এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ দলিত ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মানসিক প্রস্তুতি থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে এলাকার প্রভাবশালী প্রার্থীদের কেউ কেউ তাঁকে নিরুৎসাহিত করেন।একই এলাকার দলিত নারী সাথী সরকারও বলেন, নিরাপত্তা ও পাশে থাকার নিশ্চয়তা না পেলে দলিত নারীদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন।বৈঠকে লিপি সরকার, তিথি মণ্ডল ও শম্পা রানী দাশ নামের আরও তিন নারী জানান, কখনো নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা না পাওয়া, আবার কখনো পরিবার ও সমাজের বাধার কারণে তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না।বৈঠকে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬৫ লাখ। ৫০টির বেশি সম্প্রদায়ে বিভক্ত এই জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার। নারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও বেশি।বক্তারা বলেন, দলিত নারীরা ভোটার হলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে যেসব এলাকায় দলিত ভোটার বেশি, সেখানে দলিত সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগে সংলাপ আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে ভোট বিভক্ত না করে একজন প্রার্থীকে সমর্থনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। দলিত নারী-পুরুষ কী চান, তা সরকারকে জানানো এবং তাঁদের দাবিগুলো সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে না। তাঁর দাবি, আইনে দলিত নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। অধিকার কেউ দিয়ে দেবে না, তা অর্জন করে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির তিন সংসদ সদস্যও বৈঠকে বক্তব্য দেন। নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, দলিত নারীদের শুধু ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। মাধবী মারমা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ফাহমিদা হক বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দলিত নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আনা সম্ভব।বৈঠকে বক্তারা দলিত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা বাড়ানো, পারিবারিক ও সামাজিক বাধা দূর করা এবং বৈষম্য নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি জানান।বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, রাজনীতি এখন ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তাই দাবি আদায় করতে হলে দলিত নারীদেরও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় থাকতে হবে। শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।অভিযানের নির্বাহী পরিচালক বনানী বিশ্বাস বলেন, অনেক এলাকায় দলিত নারীরা প্রার্থী হলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে তাঁরা নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পান না।গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অভিযান ও প্রথম আলো। সুইডেন সরকারের সহযোগিতায় এতে কারিগরি সহায়তা দেয় ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেম বা আইএফইএস।

ভোট আছে, আগ্রহও আছে, তবু দলিত নারীরা প্রার্থী হতে পারছেন না কেন?