ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গুলশান-বনানীসহ রাজধানীর লেক দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত মান উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন লেকের বর্তমান অবস্থা, দূষণের কারণ এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের ছয়টি প্রাথমিক ও ছয়টি মাধ্যমিক পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পথ দিয়ে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য লেকে প্রবেশ করছে। এ সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ বৈঠকে উপস্থাপন করে।লেকের দূষণ বন্ধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করার পাশাপাশি ভবনভিত্তিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এলাকার ব্যবস্থা করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।লেকের পরিচ্ছন্নতা আরও জোরদার করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে দুটি নৌকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া ভাসমান এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী যেসব ভবনে এসটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ কমাতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদে স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।এদিকে রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪২ জন জনবল নিয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম কাজ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গুলশান-বনানীসহ রাজধানীর লেক দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ