ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গাজার ৬০% এলাকা ছাড়বে না ইসরায়েল: ঘোষণা নেতানিয়াহুর

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সরিয়ে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের জন্য নিজেই সরাসরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোন কোন দেশ গাজাবাসীদের আশ্রয় দিতে পারে, তা নিয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতেই রেখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, গাজার প্রতিটি ফিলিস্তিনির অন্য যেকোনো দেশে চলে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে প্রধান অন্তরায় হলো—তাদের পুনর্বাসন করতে সম্মত এমন দেশ খুঁজে বের করা। তিনি দাবি করেন, এ লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিবিড় তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং প্রাথমিক কিছু অগ্রগতিও হয়েছে, যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কোন কোন দেশ ফিলিস্তিনিদের গ্রহণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কিংবা কার সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ চলছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়ে চলে গেছেন এবং সুযোগ দেওয়া হলে সেখানকার অন্তত ৬০ শতাংশ অধিবাসীই স্বেচ্ছায় প্রস্থান করবেন। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো নিরপেক্ষ তথ্যপ্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। একই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গাজা উপত্যকায় বর্তমানে দখল করে রাখা ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা তেলআবিবের নেই। এসব কৌশলগত অঞ্চলের সার্বিক সামরিক নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। এর আগেও ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে গাজাবাসীদের প্রতিবেশী বা তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব তোলা হয়েছিল, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষসহ আরব বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত সামরিক অভিযানে গাজার ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে চরম মানবিক সংকট তৈরি করা হয়েছে। এমন এক অবরুদ্ধ ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে গাজাবাসীদের অন্য দেশে পাঠানোর যেকোনো উদ্যোগ স্বেচ্ছামূলক নয়, বরং এটি তাদের ঐতিহাসিক পিতৃভূমি থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার শামিল।সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

গাজার ৬০% এলাকা ছাড়বে না ইসরায়েল: ঘোষণা নেতানিয়াহুর