ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিশাতের অনলাইন বই গল্পে পাঠকপ্রিয়তা বৃদ্ধি

এমন যদি হয়—ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে একটি পেজ চলে এল আপনার সামনে। নাম ‘নিশু পিশু’। সেখানে একজন বইয়ের গল্প বলছেন। আপনি কিছুটা থমকে গেলেন। গল্পটা মন দিয়ে শুনলেন। তারপর বইটি কিনে পড়লেন। বইটি পড়ে মুগ্ধও হলেন। যাঁর গল্প শুনে বইটি কিনতে আগ্রহী হলেন, তিনি নিশাত সিকদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নিশু পিশু’ পেজে বইয়ের গল্প বলেন নিশাত। প্রাণিবিদ্যা বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি বই নিয়ে কাজ করে তিনি ইতিমধ্যে নজর কেড়েছেন। বইয়ের রিভিউ তো অনেকে দেন, কিন্তু নিশাত অত্যন্ত সাবলীল ও সহজ ভাষায় বই নিয়ে কথা বলেন। তাঁর উপস্থাপনার ধরনও বেশ স্বতন্ত্র। ছোটবেলা থেকে সুন্দর করে কথা বলার অভ্যাস ছিল নিশাতের। বাবার কাছ থেকে সে অভ্যাস রপ্ত করেন তিনি। এরপর স্কুল-কলেজে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে কথা গুছিয়ে বলার দক্ষতা আরও বাড়ে। কিন্তু বই কেন? চাইলেই তো অন্য কিছু নিয়েও কাজ করতে পারতেন। ছোটবেলা থেকে প্রচুর বই পড়তেন তিনি। একসময় মনে হলো, বইয়ের রিভিউ লিখবেন। পরে ভাবলেন, শুধু লিখলে হবে না, সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইয়ের গল্প বলবেন। একজন মানুষও যদি তাঁর কথা শুনে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ হন, সেটাই-বা কম কিসে! এরই মধ্যে অসংখ্য মানুষ তাঁর রিভিউ শুনে বই পড়েছেন। আবার এমনও হয়েছে, কী বই পড়বেন—সেটা জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দর্শকেরা। তবে বই পেলেই রিভিউ করেন না নিশাত। কোনো বই তাঁর কাছে ভালো মনে হলে তবেই সেটি নিয়ে রিভিউ করেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে বইয়ের প্রমোশনাল অফারও পান। এসব কাজ করে যে আয় হয়, তাতে অন্তত একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর হাতখরচের টাকা উঠে যায়। সব ধরনের বই নিয়েই আলোচনা করেন নিশাত। তবে বইয়ের সাজেশন বা বই রেকমেন্ডেশনধর্মী পোস্টে বেশি লাইক ও ফলো আসে। কখনো কখনো এসব পোস্টের ভিউ লাখের ঘরও ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম বইয়ের রিভিউ করেন তিনি। প্রথম থেকেই সাড়া পান ভালো। অসংখ্য মানুষ তাঁর রিভিউ পছন্দ করেন এবং আরও রিভিউ দেখতে চান। এরপর আর নিশাতকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বইয়ের গল্প শুনে অনেকে সেই বইটি পড়তে উৎসাহিত হচ্ছেন। বই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। মন্তব্যের ঘরে পাঠকেরা মতামত জানাতে পারছেন। এতে পাঠক ও লেখকের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি হচ্ছে। বই নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ভালো-মন্দ; দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই হয়েছে নিশাতের। ইতিমধ্যে তিনি বই বিষয়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। আবার কোনো বইকে খারাপ বলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেছেন। এতে খারাপ লাগে নিশাতের। নিশাত বলেন, ‘এসব অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছে, একজন রিভিউয়ার হিসেবে নিজের মতামত সৎভাবে প্রকাশ করার পাশাপাশি অন্যের মতামতকেও সম্মান করা জরুরি।’ তিনি চান, সারা দেশের আরও অনেক মানুষ তাঁর রিভিউ দেখে বই পড়তে আগ্রহী হোক। একই সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলতে এবং বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে আরও অনেক মানুষ অনুপ্রাণিত হোক। ভবিষ্যতে বইকে কেন্দ্র করে আরও ভালো ও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। বইয়ের বাইরেও গাছ লাগাতে পছন্দ করেন নিশাত। তিনি ভেষজ ও ঔষধি গাছ, ফলের গাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়েছেন। ভবিষ্যতেও পরিবেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। বইয়ের গল্প বলতে বলতে মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করাই নিশাতের মূল লক্ষ্য। একটি বইয়ের গল্প হয়তো একজন মানুষকে আরেকটি বইয়ের কাছে নিয়ে যাবে—নিশাতের কাজের সার্থকতা সেখানেই।

নিশাতের অনলাইন বই গল্পে পাঠকপ্রিয়তা বৃদ্ধি