সরকারি হিসাবের বাইরে কত ডেঙ্গু রোগী? প্রশ্ন গলাচিপায়
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যায় বড় ব্যবধানের তথ্য পাওয়া গেছে। সরবরাহ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আটটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পজিটিভ ফল এসেছে ১৭৬ জনের। এতে উপজেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রতিবেদনের হিসাবে, একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪০ জন, নিউ গলাচিপা ও সিকদার ডায়াগনস্টিকে ২৮ জন করে, মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকে ২৫ জন এবং নিউ মোহনা ডায়াগনস্টিকে ১৮ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে। এ ছাড়া পদ্মা ডিজিটাল ও জাহানারা ডিজিটাল ল্যাবে ১৫ জন করে এবং মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সাতজনের পজিটিভ ফল পাওয়া গেছে।এই আট প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা সরকারি হাসপাতালে শনাক্তের প্রায় সাড়ে ১৩ গুণ। তবে একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করিয়েছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে সংখ্যাগুলো দিয়ে মোট স্বতন্ত্র রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে পরীক্ষা করে শনাক্ত হওয়া রোগীদের তথ্যই সংরক্ষণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শনাক্ত রোগীদের তথ্য সেই হিসাবে যুক্ত হচ্ছে না বলে সূত্রটি জানিয়েছে।গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাউদ্দিনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানা আছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে নিয়মিত তথ্য পাওয়া গেলে তা সমন্বয় করে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।স্থানীয়রা উপজেলার সব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, আক্রান্তের নির্ভরযোগ্য হিসাব থাকলে মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।